
রানা ফেরদৌস চৌধুরী
ভালোবাসা একটি আপেক্ষিক ব্যাপার-যেখানে গিয়ে যার কাছে গিয়ে শান্তি পাওয়া যায়। আমার দৃষ্টিতে এটাই ভালোবাসা। আসলে ভালোবাসা দিন মেপে হয় না। তবে একটি বিশেষ দিন সেলিব্রেট করে ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলা অবশ্যই ভালো একটি বিষয়।
বদরুন্নাহার খান মিতা
আমার দৃষ্টিতে অতিপ্রিয় মানুষগুলোই ভালোবাসার মানুষ। যারা সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা আমার কাছে নেই। আমার ভালোবাসার মানুষ আমার মা-বাবা। আমি সময় পেলে অপেক্ষা করি আমার বাবার সঙ্গে দেখা করার। কারণ মা কাছে থাকলেও বাবা আমাদের কাছে থাকেন না। বাবাকে খুব মিস করি।
ফাতিমা ইসলাম
ভালোবাসা একটা অনুভূতি। যাদেরকে মন থেকে ভালোলাগে তারাই ভালোবাসার মানুষ। নির্দিষ্ট দিনের হিসাব করে ভালোবাসা প্রকাশ করার নয়, তবে বছরে একটি দিন স্পেশালভাবে স্মরণ করাটাকে আমি অ্যাপ্রিশিয়েট করি। বছরের এ একটি দিন পুরো বছরের ভালোবাসার মানুষগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেবে।
ফারহানা খান নদী
আমার দৃষ্টিতে ভালোবাসা হলো একটি হৃদয়ঘটিত ব্যাপার। হৃদয় থেকে যাকে ভালোবাসা যায় সেই হলো ভালোবাসার মানুষ। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক মানুষগুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। সামাজিকভাবেও ভালোবাসা অনেক সময় গড়ে ওঠে। দুটি মনের মিল থাকলেই সে ভালোবাসাটি গড়ে ওঠে। ভালোবাসা সীমাহীন, এটাকে দিনক্ষণের মধ্যে ফেলা যায় না। প্রকৃত ভালোবাসা অনেক ভালো কিছুর সৃষ্টি করে।
মাসুদুল হাসান
আমার কাছে ভালোবাসার কোনো সংজ্ঞা নেই। প্রতিদিনই আমার কাছে ভালোবাসার দিন বলে মনে হয়।
কবির জিন্নাহ
আমার কাছে ভ্যালেনটাইন মনে হচ্ছে মায়া। যে কারণে দেখা যায়, একজন আরেকজনকে গিফট দেয়, দোয়া দেয়। সেটা হতে পারে ভাই-বোন, মা-বাবা, পরিবারের মধ্যেও। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাকে নয়। ভ্যালেনটাইনস ডে পালন একটা ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা খুবই ভালো।
ফাতেমা জোনাকী
ভালোবাসার সংজ্ঞা ব্যক্তিভেদে একেক রকম হতে পারে। যেমন- পরিবারের প্রতি, মা-বাবা, ভাই-বোন, প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী ইত্যাদি। ক্ষেত্রভেদে ভালোবাসা হয়। তবে এর আসল রূপ একটাই সেটা হলো ভালোবাসা। দূরে থাকুক আর কাছে থাকুক ভালোবাসার মানুষটিকে মনে পড়বে যে কোনো স্মৃতিতে। ভ্যালেনটাইন এখন যুগের ট্র্যাডিশন।
মাহবুবুর রহমান
ভালোবাসার কোনো সংজ্ঞা আমার জানা নেই। আমি মনে করি যেটা হৃদয়ের টান, নেচারালি। যেটা পরিবার যেমন মা-বাবা, ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে তো থাকবেই। এছাড়া সমাজে চলতে গেলে আচরণগত মিলের কারণে কিছু মানুষের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধন গড়ে ওঠে। এমন অনেক ধরনের ভালোবাসা রয়েছে। তবে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা আছে। এর মধ্যে আমার ভালোবাসার মানুষ বাবা-মা।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা ও কর্মী সভা অনুষ্ঠিত
কে এম মাসুদ চাঁদপুর

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে অধিকৃত শক্তিশালী করতে এবং সুসংগঠিত করতে সারাদেশের ন্যায় গতকাল সোমবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা ও কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, মহাজোট সরকার চাঁদপুর জেলার উন্নয়নে বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে। আগামী ২২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা চাঁদপুরে ১৫০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করতে আসছেন। চাঁদপুরে বন্ধ হয়ে যাওয়া মাৎস্য গবেষণা কেন্দ্র পুনরায় শুরু করা হবে, নদী গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং নদী ভাঙ্গণ প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আর এসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা তৈরী হলে চাঁদপুর দারিদ্রমুক্ত হয়ে আধুনিক জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। পাশাপাশি চাঁদপুর জেলা থেকে ভিক্ষা-বৃত্তি দূর করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করতে হবে। ড. খান আরো বলেন সারাদেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সমস্যা প্রখর রূপ ধারণ করছে। আর এই সমস্যা সৃষ্টি করে গেছে বিগত জোট সরকার। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সারাদেশে এক মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি, বরং কিছু সংখ্যক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জোট সরকার দূর্নীতির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জোট সরকারের দায়ের করা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী মামলা সম্পর্কে ড. খান বলেন যে সব নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণি বলেন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের উপর জনমত সৃষ্টি করতে হবে। বর্তমান মহাজোট সরকার অন্য সরকারের চেয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন। সরকার নির্বাচনী ইশতিয়ার বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মাঝেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডা. দীপু মণি আরো বলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য নিয়ে বিরোধীদল জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়ে পাল্টাপাল্টি কথা বলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিশ্বের সবদেশ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন শেষে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজ এলাকার দায়িত্ব পালন করতে কষ্ট হয়ে যায়। এইজন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার জালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে হবে। প্রশাসনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, সরকার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আপনারা আমাদের জানাবেন। আমরা এর প্রতিকার করব। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন সংসদ সদস্যদের সাথে দলীয় নেতা-কর্মীদের দূরত্ব নিরসন করতে হবে এবং আগামী দিনে কেন্দ্রিয় নেতাদের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন করতে হবে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাজীগঞ্জ শাহারাস্তি উপজেলা সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম বলেন আওয়ামীলীগের নারী নেতৃত্ব সৃর্ষ্টি করতে হবে। রাজপথে পুরুষের চেয়ে নারীদের ভূমিকা বেশি। তিনি আরো বলেন দলকে শক্তিশালী করতে নতুন প্রক্রিয়া সৃষ্টি করতে হবে। দলের নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে এবং কেন্দ্র থেকে এ ব্যাপারে সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকতে হবে। চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, চাঁদপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস-মার্শাল (অবঃ) রফিকুল ইসলাম। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান মিয়াজী, যুগ্ম-সম্পাদক আহসান উল্লাহ আখন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুল হক মন্টু পাটোয়ারী, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রব ভূঁইয়া, সদস্য জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান পাটোয়ারী, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেদ পাটোয়ারী, হাইমচর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটোয়ারী, মতলব (উত্তর) উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস, মতলব দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক হোসেন পাটোয়ারী, হাজিগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুনুর রশিদ কাঞ্চন, হাজীগঞ্জ পৌর কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান, শাহরাস্তি উপজেলার আহবায়ক ফরিদ উল্লাহ চৌধুরী, কচুয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ মজুমদার প্রমূখ। সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক এডভোকেট জহিরুল ইসলাম।
একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের সমর্থনে জাতিসংঘের সামনের প্রবাসীদের বৃহত্তম সমাবেশ
নিউইয়র্ক থেকে এনাঃ

জাতিসংঘের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশ থেকে অবিলম্বে বাংলাদেশে জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবি এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক মহলের সার্বিক সমর্থন অব্যাহত রাখার উদাত্ত আহবান জানানো হয়।

জাতিসংঘের সামনে বাংলাদেশীদের এ যাবতকালের বৃহত্তম এ সমাবেশে যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানান ঢাকা থেকে টেলিফোনে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।তিনি বলেন, একাত্তরের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচারের দাবি অনেক পুরনো এবং তা অনুষ্ঠানে যাবতীয় পদপে গ্রহণ করা হয়েছে। বিচার হচ্ছে এবং এ জন্যে প্রবাসীদের সোচ্চার থাকতে হবে। সমাবেশের সমন্বয়কারী যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপদেষ্টা ড. নূরন্নবী ঘোষণা দেন যে, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার চলমান থাকাবস্থায় জুন মাসের শেষার্ধে এখানে আরেকটি সমাবেশ হবে।

এর আগ পর্যন্ত প্রতিটি প্রবাসীকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী সকল মহলের সাথে যোগাযোগ রা করতে হবে ফোন-ফ্যাক্স-ই-মেইল অথবা সশরীরে সাক্ষাতের মাধ্যমে। ৪ এপ্রিল দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ লীগ আব আমেরিকা, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুব কমান্ড, স্বাধীনতা চেতনামঞ্চ, ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট জেনোসাইড এন্ড ওয়ার ক্রাইমস, এবিসিডিআই,

শেখ হাসিনা মঞ্চ, চট্টগ্রাম আওয়ামী ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, স্টেট স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ, গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের ম্যারিল্যান্ড শাখা, উদীচী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখা, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, কানেকটিকাট আওয়ামী লীগ, আমেরিকা বাংলাদেশ এলায়েন্স, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ-বস্টন, সাউথজার্সী মেট্র আওয়ামী লীগ, নিউজার্সী স্টেট আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ, নিউজার্সী আওয়ামী লীগ, পেনসিলভেনিয়া আওয়ামী লীগ, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ, বিয়ানিবাজার মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট নিজ নিজ ব্যানার-ফেস্টুনসহ অংশ নেয়। মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নেই, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই,

শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হউন, ইসলামের নামে রগ কাটা ও মানুষ হত্যার রাজনীতি বন্ধ কর, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার কর, স্বাধীনতার শত্রুরা হুশিয়ার-সাবধান, জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, একটি করে রাজাকার ধর-সকাল বিকাল নাস্তা কর ইত্যাদি শোলোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করেন সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারী ও নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। সমাবেশের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিতাংশু গুহ।

জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবটি উলে খ করার সাথে সাথে সকলে হাত উচিয়ে এবং গগনবিদারী শোলোগানে তার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলালুল করিম হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ডা. মাসুদুল হাসান এবং শরাফ সরকার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সেক্রেটারী নূরে আলম জিকু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদিকা রানা ফেরদৌস চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। উলে খ্য যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থনে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সামনে প্রবাসীদের আরেকটি সমাবেশ হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেনও বক্তব্য রাখেন। আরো উলে খ্য যে, গত মাসের প্রধমার্ধে জাতিসংঘের সামনে এই একইস্থানে জামাত-শিবিরের সমর্থনে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সমাবেশের পরই প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পরে লোকজনের বিরাট এ শো-ডাউন হলো। এ সমাবেশ হওয়ার কথা ফার্স্ট এভিনিউ এবং ৪২ স্ট্রীটে রালফ বাঞ্চ পার্কে।
কিন্তু সেখানে ৭০ জনের অধিক লোকের সমাবেশ ঘটানোর অনুমতি পুলিশ না দেয়ায় মানবাধিকার সংগঠক রতন বড়?য়ার অনুরোধে পুলিশ প্রশাসন তাৎণিকভাবে ৪৭ স্ট্রীটে বিশাল পার্কে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় বলে বার্তা সংস্থা এনাকে সংশি ষ্টরা জানিয়েছেন। এ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের স্বার সংগ্রহ করা হয়েছে জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউজ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে যুদ্ধাপরাধীদের সমুচিত শাস্তি প্রদানের স্মারকলিপিতে ব্যবহারের জন্য।
প্রবাসী ডেস্ক ওয়াশিংটন
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তে বাধা দিলে বা সাক্ষীদের হুমকি দিলে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন গোলাম আরিফ টিপু।
ওই বিচারের আইনজীবী প্যানেলের প্রধান গোলাম আরিফ বৃহস্পতিবার পুরানো হাইকোর্টে ভবনে স্থাপিত কার্যালয়ে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, "তদন্ত সংস্থার কাজের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করলে বা সাক্ষীদের হুমকি দিলে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে।"
অপরাধীদের বিচারে আইনের বিধি তৈরি নিয়ে ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কীভাবে অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণ করা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে টিপু বলেন, "অনেকেই যুদ্ধের সময়কার হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা দেখেছেন। তাদের সাক্ষ্য অপরাধ প্রমাণে অনেক কাজে আসবে।
"এছাড়াও নির্যাতনের শিকার অনেকেই এখনো বেঁচে আছেন," বেঁচে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, "তারা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হবেন। ওই সময়ের পত্র-পত্রিকা এবং বই-পুস্তক সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে।"
গোলাম আরিফ টিপু বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে কোনো লুকোচুরি করার অবকাশ নেই। অপরাধীদের অপরাধ আমলে না নিলে দুর্নীতির মতো তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।৭১ সালে কারা হত্যা, ধর্ষণ এবং মানবতাবিরোধী কাজে অংশ নিয়েছে সারা দেশের মানুষ তা জানে। আমরা তাদের বিচার করতে চাই। ৩৯ বছর পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই একটু সময়ের প্রয়োজন। এ জন্য দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেশ বিদেশে এ সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণও রয়েছে। সেসব তথ্য সংগ্রহ করে আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করবো। কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং অপরাধী সাধারণ মানুষ হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্য সংগ্রহের পর অভিযোগ গ্রহণ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা বিচারকের এখতিয়ার। কতিপয় যুদ্ধাপরাধী বিদেশে পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করছি।
অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কি হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তদন্ত কমিটির প্রধান আব্দুল মতিন বলেন, '৭১ সালে মানবতাবিরোধী কাজে অংশ গ্রহণকারী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গ্রেটার ওয়াশিংটন ম্যারিল্যান্ডে আওয়ামী লীগের উদ্দোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালিত

গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের ম্যারিল্যান্ড ইউনিটের আয়োজনে গত ২১শে মার্চ শনিবার মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর সিটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯০তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়।আলোচনা সভা এবং সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল আয়োজনের মধ্যে। মজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাওটি পরিচালনা করেন এম করিম বাচ্চু|
গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলমের স্বাগত বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধুর জীবনির উপর আলোচনায় অংশ নেন গোলাম সারোয়ার, নুরুল আমীন, শামীম আলী, বুলবুল আহমেদ, চার্লি শাহ, আবদুর রহমান মানিক, ড. তাপস, মুনির পাটোয়ারী, জাকির হোসাইন, জি আই রাসেল, শফিক আলম, প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভয়েস আমেরিকার জনপ্রিয় ভাষ্যকার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আনিস আহমেদ।

বক্তারা বঙ্গব্ধুর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, দেশ বিদেশে নূতোন জাগরন দেখে মনে হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবেই।বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মত রাজাকার, আল-বদরদের আবশ্যই বিচার করতে হবে। নুতন প্রজন্মকে মুক্তযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিখাতে হবে।

আমাদের ইতিহাসের এক আলোকোজ্জ্বল নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের ইতিহাস এবং তাঁর নাম এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক সূত্রে গাঁথা। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিরামহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি দেশ জুড়িয়া সৃষ্টি করিতে সক্ষম হইয়াছিলেন এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ। সেই সময় তিনি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী ঐতিহাসিক ৬ দফা। এটা ছিলো তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবী যাহা পরবর্তী সময়ে অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলনের রূপ ধারণ করে। ইতিহাসে এটাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলে চিহ্নিত।

১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ক্ষমতায় যেতে পারেনি। কারণ ইয়াহিয়া খান এবং জুলফিকার আলীর প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। চক্রান্ত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে দেয়া হয়নি।

পরিণামে বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ ব্যপী শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। নিজেদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার চাওয়ার অপরাধে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে বাঙালি জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় পাকবাহিনীর ধ্বংসলীলা। চলে নির্দয় ও নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ। সঙ্গত কারণেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে এদেশবাসীর সম্পর্ক সূত্রটি ছিন্ন হয় চিরতরে। পঁচিশে মার্চের কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলেও তাঁর অনুপস্থিত নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়া অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

পাকিস্তানী শাসনামলে সেই সময়কার বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভূমিকা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল। জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাধারণ মানুষের উন্নত জীবন লাভের স্বপ্নের বাস্তবায়ন, কায়েমী স্বার্থের বিপক্ষে অবিচল অবস্থান গ্রহণ সর্বোপরি বাঙালীর আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির আকাঙক্ষা বাঙময় হয়ে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। অনেকে বুঝতে পারেননি, যিনি সমগ্র জীবন গণতন্ত্র এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তিনি কেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ত্যাগ করে একদলীয় বিপ্লবী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন।

আজকের এই দিনে হৃদয়ে স্মরণ করি বঙ্গবন্ধুকে। এই মহান নেতাকে দলীয় দৃষ্টিকোণ হতে দেখার অবকাশ নেই। স্বাধীনতার স্থপতি হিসাবে দলীয় পরিসীমার ঊর্ধ্বে তুলে তাঁকে স্বীকার করে নেয়ার প্রশ্নে কোনো দ্বিধা থাকতে পারে বলে মনে করি না। রাজনৈতিক ভুলভ্রান্তি তাঁর ছিলনা, তা নয়। তবুও রাজনীতিতে যাঁর যতটুকু স্বীকৃতি প্রাপ্য, তাঁকে সেটা দিতে হবেই। শোকের এইদিনে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরী, যমুনা বহমান
তত দিন রবে কির্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান
আলোচনা সভা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সীমা রানী, বুলবুল আক্তার, সালাউদ্দীন, আবদুল আলীম। তবলায় সঙ্গত করেন হিমু রোজারিও। জন্মদিনের কেক কাটে এবং আগত ব্যক্তিবর্গকে নৈশ ভোজে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সোমবার, ১ মার্চ ২০১০, ১৭ ফাল্গুন ১৪১৬, ১৪
গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ওয়াশিংটনের প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই অনুষ্ঠানের সচিত্র বিস্তারিত প্রতিবেদনের জন্য আগামীকালের সংখ্যার পাতায় নজর রাখুন।









