
ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ই জুন, রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খালেদ হাসান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সাদেক খান এর সভাপতিত্বে সংঠনের সাধারণ সম্পাদক অমর ইসলাম এর পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন ????? প্রসঙ্গত, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক সম্মেলনে ছয় দফা প্রস্তাব দেন, যা মূলত ছিল বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি। ছয় দফা উপেক্ষিত হওয়ায় আন্দোলন দ্রুত স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নেয়। ১৯৬৬ সালের ১৩ মে পল্টনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় ৭ জুন হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জুন মাসব্যাপী ছয় দফা প্রচারে বিপুল কর্মসূচি নেয়া হয়। ৭ জুন তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল বেভারেজের শ্রমিক সিলেটের মনু মিয়া গুলিতে প্রাণ হারান। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে মারা যায় ছয়জন শ্রমিক। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে সন্ধ্যায় কারফিউ জারি করতে হয়।
ফেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী" এর বৈশাখী উৎসব
জাকির হোসাইন,ওয়াশিংটন

বাঙালীয় সময়জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করাই মহা ভুল। রেলস্টেশনে বাবা মাকে জিগ্যেস করতে শুনেছি নটার ট্রেন কটায়। ভাবতে পারিনি এই ভার্জিনিয়া এসেও একই প্রশ্ন করতে হবে।
গতকাল আমাদের এখানে বৈশাখী মেলা হলো। ভার্জিনিয়ার অন্যান্য শহরগুলোর তুলনায় আমাদের মেলা নাকি শিশু ! এবারের ভার্জিনিয়ার ৬৬২১ কলম্বিয়া পাইক, ফলস্ চার্চ, ভার্জিনিয়া ২২০০৩স্থ ম্যাসন ডিষ্ট্রীক পার্কে "ফেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী" আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলার ছবিগুলো দেখে বুঝতে পারলাম শুধু শিশু বল্লে ভুল হবে, বলতে হবে দুগ্ধপোষ্য নবজাত শিশু।

কথা ছিলো সকাল এগারোটায় মেলা শুরু হবে। আমরা টোনা-টুনি যথারীতি হাজির ১১:০৫ টায়। যথারীতি ৫ মিনিট দেরী । ভেবেছিলাম দেরী হয়ে গেলো। ওমা !! অনুস্ঠান শুরুতো দূরের কথা খবরই নাই। হাতে গোনা কিছু মানুষ ভুঁড়ি ঊঁচিয়ে হাঁটা হাঁটি করছে। একজকে জিগ্যেস করলাম " ভাই, অনুস্ঠান না শুরু হইবার কথা ! অনুস্ঠান কি শেষ ? "। ভদ্রলোক এহেন বেকুবীয় প্রশ্নে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বল্লেন " অনুস্ঠান শুরু হইতে দেরী আছে, দ্যাখেন না ব্যানারই টাঙানো হয় নাই " ।উচ্চারন শুনে মনে হোলো জনাবের আদিবাস বরিশাল।

অনুস্ঠান শুরু হলো যথারীতি দেরী করেই। জয়তু বাঙালীর সময়জ্ঞান। উদ্ভোদক উনার বক্তৃতায়, সেদিকে নজর না দিয়ে আমরা ব্যস্ত স্টলে স্টলে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নাচ গানে ব্যস্ত আর আমরা ব্যস্ত খাবারে। বৈশ্য বাঙালী ওয়াশিংটনে ও ব্যস্ত বানিজ্যে। পিএইচডি ডিগ্রীধারী ব্যস্ত ঝালমুড়ি বানাতে, কৃষিবিজ্ঞানী ব্যস্ত চটপটি বানাতে। আর আমরা ব্যস্ত পেট পুজোয়। কি কি খেয়েছিলাম সেটার লিস্ট দিয়ে ফেলি এ যাত্রায়। জিলাপী, চমচম, সন্দেশ, চটপটি, ফুচকা, ঝাল-মুড়ি, ঘুঘনি, হালিম, লুচি-ভাজি, সিঙাড়া। প্রিয় কাচ্চি বিরিয়ানীকে এক স্টলে দেখে আগ্রহী হয়ে এগুতেই দেখি তা আসলে তেহারী। ব্যাটা কি আমাদের মফিজ পেয়েছে যে কাচ্চি দেখাতে গিয়ে হাইকোর্ট দেখাবে !

ভার্জিনিয়ার ৬৬২১ কলম্বিয়া পাইক, ফলস্ চার্চ, ভার্জিনিয়া ২২০০৩স্থ ম্যাসন ডিষ্ট্রীক পার্কে মেলা দেখে অনেক আগ্রহ নিয়ে ছিলাম শাড়ি পড়া বাঙালী ললনা দেখবো ( অবশ্যই বউয়ের চোখ বাঁচিয়ে )। শাড়ি পড়া ললনাদের দেখে চিৎকার করে গান গাইতে ইচ্ছে করছিলো " মেলায় যাইরে "। অতি অতিসংগত কারনে গান গাওয়া হয়নি( মৃত পুরুষের গান গাওয়ার অধিকার নেই)।তবে একটা মজার বিষয় লক্ষ্য করেছি। ওয়াশিংটনের মেয়েরা বাংলাদেশী মেয়েদের তুলনায় অনেক স্বাস্থ্যবতী। স্বাস্থ্য রহস্যটি বুঝতে পারলাম না।
ফ্যাশন শো নামক এক আজব চিজ দেখে অবাক হয়েছি। আয়োজকদের মস্তিস্কের উর্বরতা সম্পর্কে নিসন্দেহ হয়েছি। উনাদের মাথায় কাঁঠালবিচি লাগালে আশা করি ২ দিনের মাঝেই গাছ গজাবে। বাংলার বৈশাখী মেলায় ফ্যাশন শো !! আজব।
ওয়াশিংটন বাঙলা স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের পারফরমেন্স দেখে আমি মুগ্ধ। অসাধারনভাবে উপস্থাপন করেছে বাচ্চাগুলো। এরাই আসলে প্রবাসে বাংলার সংস্কৃতি ধরে রাখবে। এদের নাচ, কবিতা আবৃতি, অসাধারন গান শুনে একবারো মনে হয়নি প্রবাসে বসে বৈশাখী মেলায় বসে আছি। সাবাস বাঙালী। বাচ্চাগুলোর বাবা-মাকে অনেক শ্রদ্ধা।
অনুস্ঠানের শেষের দিকে ওয়াশিংটনবাসী স্থানীয় সংগঠনের' পরিবেশনায় যখন 'এসো হে বৈশাখ এসো এসো...। " গান শুরু হোলো তখন প্রথমবারের মতো মনে হোলো বৈশাখ এসেছে ক্যানবেরায়। সময় হয়ে এসেছিলো চলে আসবার। ইচ্ছে ছিলো আরো অনেক সময় নিয়ে থাকবো, হলো না। নীড়ে ফেরার তাগিদ।
দারুন একটি দিন গেলো। অন্যরকম। বাসায় আসার পথে একগাদা বাজার, সংসারী মানুষেরা যা করে আর কি। পদ্মার ঈলিশ থেকে শুরু করে মুড়ির মোয়া। যা হয় সব সময় আমার, আমের আচার কিনতে গিয়ে রসুনের আচার কিনে নিয়ে এসেছি। বউ রেগে টঙ। আমার নাকি চশমা অতিজরূরী।
সাউথ জার্সি আওয়ামী লীগের মহান স্বাধীনতা দিবস পালন
আটলান্টিক সিটি থেকে আবু নছর মিনার:

গত মঙ্গলবার ৩১ জানুয়ারী, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাউথ জার্সি মেট্রো আওয়ামী লীগের উদ্দোগে আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান আতিথির ভাষনে জাতি সংঘ বাংলাদেশ মিশনের কালচারাল মিনিষ্টার বিশিষ্ট নাট্যকা্র অধ্যপক মমতাজ উদ্দিন বলেছেন,স্বাধীনতা ছেলের হাতের মোয়া বা মামার বাড়ীর আবদারও না এটাকে বুঝতে হবে, উপলুদ্ধি করতে হবে। গতকাল স্থানিয় কোয়ালিটি হোটেলে সংঠনের ভার প্রাপ্ত সভাপতি সিরাজ জুদ্দৌলা ভূইয়ার সভাপতিত্বে উক্ত আনুষ্টানে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডঃ সিদ্দিকুর রহমান,সাধারন সম্পাদক নিজাম চোধুরী, সংঘঠনের উপদেষ্টা ডঃ লুৎফর রহমান, শিক্ষাবিদ ডঃ সরোয়র জাহাংগীর, শহসভাপতি বোরহান উদ্দিন, জাহাংগীর মাহামুদ, আবু তাহের, সদস্য সমসুল আলম সাহাজাহান, কামাল হোসেন, এম ডি জামান, গৌতম নাঘ, প্রমুখ, সংঘঠনের সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিনের পরিচালনায় কুরান তেলোয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করা হয় প্রধান অতিথি ভাষনে সুনসান নিরবতায় বঙ্গবদ্ধুর জীবনীর উপর আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধান অতিথিকে বারবার আবেগ প্রবন হতে দেখা য়ায়, আর দর্শকরা শুধু অভিভূতই হননি অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।তিনি বলেন, দু-বোনের পর কাঙ্খিত বঙ্গবদ্ধু পরিবারের আদুরে �খোকা� হিসাবে এসেছিলেন। নানা নাম দেয়েছিলেন, শেখ মুজিবর রহমান,য়ার অর্থ যিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি গরীবের দুঃখ কষ্ট দেখলে বিচলিত হতেন, হতেন বেদনা শিক্ত।স্কুল থেকে প্রায়ই না খাওয়া ছাত্রদের বাড়িতে এনে মাকে বলতেন মা আমার খাওয় গুলো এদের খাইয়ে দাও। তিনি বলেন,আনেক ভুল ভ্রান্তি থাকতে পার কিন্ত বাংগালির আছে অঢেল প্রেম ও ভালোবাসা, যাকে বংগবদ্ধু চিনেছিলেন, আবিস্কার করেছিলেন এবং পেয়েছিলনও বাংগালির ভালোবাসা।তিনে বলেন, তিনি বাংগালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে স্বাধীনাতা এনে দিয়েছিলেন। বংগবদ্ধু বলেছিলেন, যার যা আছে তাই নিয়ে শুত্রুর মোকাবেলা করতে।তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানে স্ব-অধিনতা,আত্ম নিয়ন্তন করা।বাংগালি আজ আত্ম মর্যাদাশীল জাতি।তিনি বলেন,সু-দুর এমেরিকাতে তিনি বহু বিদেশীকে ভিক্ষা করতে দেখলেও কোন বাংগালিকে দেখেননি,কেননা বাংগালি এখন স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি। তিনি দুঃখ করে বলেন, দেশের সম্পদ লুট কারী, গন্ড, মূর্খরা এখন আমাদের স্বাধীনতা শেখান। তিনি বংগবদ্ধু ও জেল হত্যার চিত্র তুলে ধরে বলেন, বংগবদ্ধুর মত বীররা কখনো আত্মসমর্পন করতে জানেন না তিনি শত্রুর বুলেট কে বুকে আলিংগন করেছিলেন।উপদেষ্ঠা সিদ্দিকুর রহমান সবাইকে বংগবদ্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান।প্রধান বক্তার বক্তব্যে জনাব নিজাম চৌধুরী বলেন,আপনার অনেক সৌভাগ্যবান যে এমন এক জন প্রধান অতিথি পেয়েছেন। তিনি শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করার অনুরোধ জানান। এক মনোমুদ্ধকর স্বাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশ্ করেন শহীদ খান, হাবিবুর রহমান পিনু, রানী, মুন্নি, শীলা, খোকন, ইকবাল প্রমুখ আনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইকবাল। উল্লেক্ষ, আনুষ্ঠানে প্রচুর শিশু কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিয়োগিতায় অংশনেন, এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরুস্কার বিতরন করেন প্রধান অতিথি আধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন।সব শেষে হয় সু-স্বাধু ভূড়িভোজ।
৩৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটনস্থ
প্রবাসী ডেস্ক ওয়াশিংটনস্

দিবসটি উপলক্ষ্যে ২৯ শে মার্চ সকালে দূতাবাসে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং দেশের অব্যাহত শাšিত ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিকেলে দূতাবাসে একটি সংবর্ধ¦না অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।রাষ্ট্রদূত জনাব আকরামুল কাদের এবং তার স্ত্রী মিসেস রিফাত সুলতানা আকরাম অতিথিদের দূতাবাসে স¦াগত জানান।মাননীয় সংসদ সদস্য এবং শিক্ষা সংক্রাšত সংসদীয় ষ্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান জনাব রাশেদ খান মেননও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

মার্কিণ পররাষ্ট্র দফতরের ভারপ্রাপ্ত এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী অব ষ্টেট জনাব প্যাট্রিক মুন দিবসটি উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রদত্ত বাণীটি পড়ে শোনান।বাণীতে প্রেসিডেন্ট ওবামা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এবং বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অংগীকারের কথা পূনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিণ নাগরিকদের প্রসংগ উলেখ করে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাদেরকে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের গুরূত্বপূর্ণ অংশ বলে আখ্যায়িত করেন।রাষ্ট্রদূত জনাব আকরামুল কাদের প্রবাসী বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিণ নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার জন্য আহবান জানান। অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবারে আপ্যায়িত করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামান্যচিত্রও দেখানো হয়। অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবারে আপ্যায়িত করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামান্যচিত্রও দেখানো হয়।
গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের ম্যারিল্যান্ড ইউনিটের যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুস্টিত হয়

বিকাল ৪ টায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান iতারপর মহান স্বাধীনতার তাৎপর্যের উপর বক্তৃতা প্রধান করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ৭ মার্চের ভাষণেই তিনি বাঙালী জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়ে ছিলেন। তিনি শুধু ডাকই দেননি! সবাইকে প্রস্তুত হয়ে হানাদার পাকিস্তানী শত্রুর মোকাবিলা করতেও বলেছিলেন। তোমরা যখন আরো বড়ো হবে, তখন বুঝবে- একজন প্রাজ্ঞ নির্ভীক নেতা কী অসাধারণভাবে বলিষ্ঠ অথচ এক অনাড়ম্বর সহজ ভাষায় সারাদেশের মানুষকে কী কী করতে হবে তার এক নিখুঁত যুদ্ধ পরিকল্পনা বলে দিচ্ছেন! ব্যাঙ্ক-বীমা, টাকা-পয়সা, খাবার-আশ্রয় সব বিষয়েই সহজ কিন্তু প্রাঞ্জল ভাষায় এক এক করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কার কী করণীয় সেই ৭ মার্চেই তিনি একটিমাত্র বক্তৃতাতেই সব বলে দিয়েছিলেন।

সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। স্বাধীনতার অমৃত স্বাদে ভরে উঠুক সবার মন, দুর হোক সব দ্বন্দ-হানাহানি, শুধু দেশের জন্য লড়ুক সবাই এক হয়ে, এক আত্না হয়ে। আর যেন কোন হাহাকার এসে হানা না দেয় এই বাংলার মাটিতে, আর যেন রক্তে রন্জিত না হয় এই বাংলার মাটি নিজের সন্তানের রক্তে। গোলাভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছে ভরে উঠুক প্রিয় এই স্বদেশ।সবুজ-শ্যামল এই বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলুক---------। সকল দেশবিরোধী ও যুদ্ধপরাধীরা নিপাত যাক এই মাতৃভূমির মাটি থেকে, আগামী স্বাধীনতা দিবসের আগেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার ও শাস্তি কার্যকর হোক।

এম করিম বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন আমর ইসলাম, আলোচনায় অংশ নেন মোহাম্মদ আলম, সারোয়ার, নুরুল আমীন, শামীম আলী, বুলবুল আহমেদ, আনিস রহমান , মুনির পাটোয়ারী, জাকির হোসাইন, জি আই রাসেল, শফিক আলম, করিম , মোহাম্মদ জাকির মুনির প্রমুখ।
বাংলাদেশ দূতাবাসে বংগবন্ধুর ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতিক জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়।বিকেলে বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।রাষ্ট্রদূত জনাব আকরামুল কাদের তাঁর বক্তৃতায় স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বঙ্গবন্ধুর মহাকাব্যিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জনাব আকরামুল কাদের ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১০ উপলক্ষে একটি চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেরা চিত্র ও রচনার জন্য শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মান্যবর রাষ্ট্রদূতপত্নী মিসেস রিফাত সুলতানা কাদের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
কমিউনিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা রফিক পারভেজ, সাধারন সম্পাদক অমর ইসলাম, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহমুদুন্নবী বাকী, বর্তমান সাধারন সম্পাদক শেখ সেলিম, কমিউনিটি নেতা ডঃ বিশ্বজিত ডঃ শাহজাহান মাহমুদ প্রমুখ।

বক্তৃতারা বক্তৃতায় বলেন কাউকে মূল্যায়ন করতে হলে সম্ভবত তাকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করাটাই শ্রেষ্ঠ পন্থা। কেননা কে কোন পদে ছিল, কোন দলে ছিল, এটা স্রেফ ভাগ্য কিংবা তার জীবনের ফের। উনি কোন দল করেছেন অথবা কোন মতাদর্শী ছিলেন, তাও জানতে চাই না। শুধু এত টুকুই জানি, আমার এই বাঙালি পরিচয়টা তাঁর দীর্ঘ সাধনা, অসীম ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে। সাধারণ একটা মানুষের জন্য, দেশের বাইরে গেলে তার জাতিগত পরিচয়টাই সবার আগে মুখ্য হয়ে ওঠে। আমার এই জাতিগত পরিচয়টা তাঁর দেয়া।

যার কারণে যখন কোন বিদেশীর সামনে দাঁড়াই, তখন নিজেকে এভাবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি, " আমি একজন বাংলাদেশী!" এই কথাটা দৃপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করার সাহসটা তিনিই দিয়েছিলেন এবং এক সময় সেই সাহসটাকে অধিকারে রূপ দিয়েছিলেন। একটা জাতিকে পথ দেখানো, তার পরিচয় গড়ে দেয়াটা একটা ক্ষুদ্র কাজ কোনভাবেই নয়। বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে তিনি এক করতে পেরেছিলেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে কি সম্ভব হত এটা? কিংবা এখনকার রাজনীতিকদের কথাই ধরি না কেন। কত শত আল্টিমেটাম, কত শত কথাই তো শোনাচ্ছেন তারা। কিন্তু মানুষকে ধোঁকা দেয়াটা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেছিল মুজিবকে। যার কারণে তারা এই মহান ব্যক্তির ডাকে সাড়া দিয়েছিল।
এই বিশ্বাসযোগ্যতা কি পাওয়া যাবে আর সব নেতাদের মাঝে? কিংবা এই দৃঢ়তা? দেশপ্রেম? যাবে না। একজনই ছিল এবং একজনই থাকবেন। তিনি শেখ মুজিব, আমার জাতীয় পরিচয়প্রদায়ক।এমন একজন মানুষ, যিনি কি না শতবর্ষে একবার এই জরাগ্রস্ত বসুধায় পদধূলি দেবেন, এমন মানুষ তো মানুষ নন, দেবদূত। এমন একজন দেবদূতকে আমাদেরই কিছু বিশ্বাসঘাতক আমাদের মাঝ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

তারা বুঝতে পারেনি, তাদের জন্য সৌভাগ্য বাহক একজনকে তারা রক্তাক্ত করেছে, সেই সাথে রক্তাক্ত করেছে বাঙালির ললাটকে, তার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে। এই রক্তঝরা শেষ হবে না কোনদিন। বাঙালিও কোনদিন বুঝবে না, কি হারিয়েছে তারা, কি ক্ষতি হয়েছে তাদের। যেমনটি বুঝবেনা ঐ রক্তমাখা অপরাধী হাতের মানুষগুলো।
বাঙালিও রঞ্জিত হবে সেই অপরাধের রক্তরঙে। তার ললাটে আজীবন ঝরতে থাকবে একজন দেবদূতের রক্ত। মৃত্যুর পরও দেবদূত অভিশাপ নয়, তার সন্তানদের জন্য আশীর্বাদ দিয়ে যাচ্ছেন। হায়, আমরা কি কোনদিনই বুঝব না, কি হারিয়েছি আমরা!

এই দিনে এই কালজয়ী ব্যক্তিত্বের প্রতি অপরাধবোধে সিক্ত একজন বাঙালি শ্রদ্ধা জানাই। জানি মুজিব, তোমার ন্যায় একজন বাঙালিও এই বাংলায় জন্মাবে না। কেননা বাঙালি দেবদূতের মূল্যায়ন করতে জানে না। তবুও তুমি যা দিয়েছ আমাদের, তাই নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। স্বপ্ন দেখতে চাই, তোমার সোনার বাংলাদেশের।

হয়ত সেটা নেহাৎ স্বপ্ন। রূপকারকে বাদ দিয়ে কি তা গড়ে তোলা সম্ভব! তবুও তুমি পাশে থেকো, মুজিব, যেন, আমরা তোমার স্বপ্ন সত্যি করতে পারি। না হয় হল ৫০ কি ৬০ বছর, তবুও এক সময় যেন, আমরা বিশ্বের চোখে দৃপ্ত চোখে তাকিয়ে বলতে পারি, " আমরা অকৃতজ্ঞ নই, আমরা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নকে রূপ দিয়েছি দেখো! তোমরা কি পেরেছো তাই!" মুজিব ক্ষমা করো তোমার সন্তানদের, তোমার অকৃতজ্ঞ সন্তানদের.........
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ" উপলক্ষে গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা সভা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ" উপলক্ষে ৬ মার্চ শনিবার গ্রেটার ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা সভা সন্ধ্যা ৬টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয় ৬৬৫০ আর্লিংটন বুলাভার্ড, ফলস্চার্চ, ভার্জিনিয়া ২২০৪২ স্থ কোয়ালিটি ইন হোটেলে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা রফিক পারভেজ এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অমর ইসলাম। শুরুতেই কোরান তেলোওয়াত করেন শামীম আলী।বক্তব্য রাখেন জিআই রাসেল, এম করিম বাচ্চু, মাহফুজ শুভ্র, আনোয়ার হোসাইন, জাকির হোসাইন, মনিরুল ইসলাম, বুলবুল আহমেদ, ডঃ গোলাম ফরিদ আক্তার প্রমুখ।

বক্তারা বলেছেন,৭ই মার্চ ১৯৭১। বাঙালী জাতির জীবনে এক যুগান্তরকারী দিন। ইতিপূর্বে পূর্ব বাংলায় (১৯৫২ পরবর্তি সময়ে পূর্ব পাকিস্থান) যে আন্দোলনগুলো হয়েছিল সেখানে প্রধানত স্বাধীকার প্রতিষ্ঠাই মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল।

কিন্তু ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতিকে এমন এক নুতন দিনের স্বপ্ন দেন যা জাতিগত ভাবে আমাদের অন্য ভাবে ভাবতে শুরু করায়। এদিন বঙ্গবন্ধু তৎকালিন রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষনে ঘোষনা দেন - "এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।"
সেদিনই প্রথমবারের মত খোলামেলা ভাবে আমরা পকিস্তানী শাসকদের জানিয়ে দেই আমরা এখন স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত। পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনা যেন এ ভাষনেরই প্রতিফলন ছিল। সেজন্যই বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ই মার্চের ভাষন আমাদের কাছে আজও ব্যাপক গুরুত্বপূর্ন এবং তাৎপর্যবহ।

৬ মার্চ লে জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খানকে অপসারণ করে লে জেনারেল টিক্কা খানকে পুর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় । এই উত্তপ্ত সময়ে নৃশংস বলে কুখ্যাত টিক্কা খানকে পুর্ব পাকিস্তানে প্রেরণের উদ্দেশ্য যে মিলিটারী বুটের নিচে পুর্ব পাকিস্তানের গণ আন্দোলনকে দাবিয়ে দেয়া এটা উপলব্ধি করতে পেরে ঢাকা হায়কোর্টের প্রধান বিচারপতি জনাব বি এ সিদ্দিকী টিক্কা খানের শপথনামা পরিচালনা করতে অস্বীকার করেন ।

ফলে সৃষ্টি হলো এক অচলাবস্থার । এদিকে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বাধীন ‘নিউক্লিয়াস’ শেখ মুজিবের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যাতে তিনি ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ।

৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার জন্য শেখ মুজিবের ওপর চাপ তুঙ্গে উঠে এবং সেদিনই তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার দীর্ঘ আলাপ হয় । প্রেসিডেন্ট তাঁকে অনুরোধ করেন যেন তিঁনি এমন কোন পদক্ষেপ না নেন যাতে আর প্রত্যাবর্তনের কোন পথ না থাকে ।
একই দিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঘোষণা দেন যে , আগামী ২৫ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে । কিন্তু ভাষণে প্রেসিডেন্ট যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন ,তাতে পুর্ব পাকিস্তানের জনগণ আরো উত্তেজিত হয়ে পড়ে ।

এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগ , ছাত্রলীগের রেডিক্যাল অংশ শেখ মুজিবের ওপর আরো চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার জন্য । পরদিন ৭ মার্চ জনসভাকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে চলতে থাকে প্রস্তুতি এদিকে পাকিস্তানে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাস্ট্রদুত যোসেফ ফারল্যান্ড বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন এবং হুমকি দেন ‘ মার্কিন সরকার পাকিস্তান ভাঙ্গা সহ্য করবে না’ ।

রাতে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক বসে কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা' মুলতবি হয়ে যায় ।এই ত্রিশংকু অবস্থায় ৭ মার্চ বেলা ২:৩০ মিনিটে রেসকোর্সের জনসমুদ্রের সামনে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিতে দাড়ালেন ।

এ ভাষন সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী আসলেই কতটুকু জানে? তারা কি বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সেই অকুতভয় কন্ঠস্বর কখনো শুনেছে? নিশ্চিৎ পঞ্চাশ শতাংশও সম্ভবত শোনেনি। এটা তাদের দোষ নয়। আমরাই তাদের শোনার মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারিনি।

আজ আমরা পুরো ভাষনটির অডিও এবং টেক্সট একসাথে তাদের হাতে তুলে দেয়ার প্রচেষ্টা করবো। যদি বর্তমান প্রজন্মের একজন ছেলে বা মেয়ে এই ভাষনটি পড়ে বা শোনে, তাহলে প্রচেষ্টাকে আমরা সার্থক মনে করবো।
সভায় বক্তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যথা শীঘ্রই শুরু করার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানান।
নিন্দা ও প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ
জাহাঙ্গীর,নিউইয়র্ক
বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ৫ ফাল্গুন ১৪১৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেনকে শিবির কর্মীরা সোমবার গভীর রাতে হত্যা করে৷ এই ঘটনায় আহতদের মধে দু'জনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে আনা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে একজন ফিরোজ মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান৷ তার হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে৷ সে ডয়চে ভেলেকে জানায়, সেই রাতের ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা৷ হাত পায়ের রগ কাটার পর তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গিয়েছিল৷ আরেকজন ছাত্র সাইফুর রহমান বাদশা শিবিরের হাত থেকে তাদের বাঁচানোর জন্য আকুতি জানান৷ এই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ । তারা জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়৷ যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলী মনে করেন, দোষীদের বিচার না করলে এই সন্ত্রাস বন্ধ হবে না , জামাত শিবির একাত্তরের ধারাতেই রয়ে গেছে৷

বক্তারা বলেছেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামী এবং তৎকালীন রাজাকার,আলবদর,শামস বাহিনীর নিষ্ঠুর কসাই সদস্য দের ইসলামী ছাত্র সংঘের পরিমার্জিত রুপ ছাত্রশিবির বর্তমানে বাংলার আপামর জনতার অন্যতম দাবী তে পরিণত হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারের হাত থেকে বাঁচতে নতুন কৌশল নিয়েছে। এতদিন ওদের কাছে জাতীয় সংগীত ছিলো কালী দেবীর উদ্দেশ্যে লেখা হিঁদু কবির গান,বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন অপশাসক।আর আজ সেই গান টা গেয়েই ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী শুরু হয়,জামায়াত নেতা রা গদ গদ করে শেখ মুজিবর রহমান কে বাংলার স্থপতি ও বঙ্গবন্ধু বলে মুখে ফেনা তোলে, না।এরা বিকৃত মানসিকতার লোক।হঠাৎ করে দেশপ্রেমিক হয়ে উঠে নি।জমায়াত নেতা রা স্বীকার করেছে,এসবই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
ছাত্র শিবির নামক সন্ত্রাসী সংগঠন নিষিদ্ধ করা হোক, জামাতের যুদ্ধাপরাধীগুলারে প্রকাশ্যে ফাসিতে ঝুলানো হোক
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শোকরানা এবং আনন্দ সমাবেশ
জাহাঙ্গীর,নিউইয়র্ক

গত ২৭ জানুয়ারী বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার ফাঁসির রায় কাযকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উদ্দ্যেগে এক শোকরানা সভার আয়োজন করা হয়।বক্তারা এই ঐতিহাসিক রায় কাযকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শোকরানা আদায় করেন।

বক্তারা অন্যান্য আসামীদেরকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কাযকর করার আহবান জানান।সভায় হত্যা মামলার বেনিফিসিয়ারীদের বিচার দাবী করা হয়।বক্তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

গোটা জাতি অভিশাপ মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছিল, আজ সেই অভিশাপমুক্তি হয়েছে।বিএনপি কোনো প্রকার সহানুভূতি বা বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে খুনিদের পক্ষে বিএনপির অবস্থান প্রমাণ হয়েছে।১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও বিডিআর বিদ্রোহের বিচার করা। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এসব বিচার হওয়া দরকার।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মতো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় এসব অপরাধের বিচার করা সম্ভব হলে দেশে আর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে কেউ সাহস পাবে না।যত শক্তিশালী বা ক্ষমতাধরই হোক, অন্যায় করে কেউ পার পায় না, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বড় প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে জাতি কিছুটা হলেও কলঙ্কমুক্ত হলো। আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
ময়মনসিংহ ইউ এস এ ঈদ ও পুজা পুনর্মিলনী উৎসব
সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১০, ১২ মাঘ ১৪১৬

অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশে ময়মনসিংহ ইউ এস এ ১৭জানুয়ারি ২০১০রোববার ঈদ ও পুজা পুনর্মিলনী উৎসব উদযাপন করল। অঝর বৃস্টিধারা উপেক্ষা করে ইউ এস এ বসবাসকারী বাংলাদেশীরা সপরিবারে এই আনন্দ মিলনে যোগ দেন। অনুষ্ঠানের প্রথমেই ছিল অভ্যাগত অতিথিদের মধ্য থেকে ঈদ ও পুজার স্মৃতিচারণ। এতে ঈদের স্মৃতি রোমন্থন করেন আবৃত্তিকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা
ঈদ মানেই অফুরন্ত আনন্দ আর উৎসব। দেশের মাটিতে ঈদের উৎসবের প্রগাঢ় স্মৃতিময়তা সবাইকে প্রচন্ডভাবে নস্টালজিক করে তুলে। তাই, প্রবাসে বসে একত্রে ঈদ উৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে সেই আমেজের ছোঁয়া পাওয়া সত্যি খুব আনন্দদায়ক। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল চটপটি ও গরম চায়ের আয়োজন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিকর্মীরা গানের পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করে রাখে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

সংস্কৃতিকর্মীদের সবার কন্ঠে "রমজানের রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ" গানটির পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে আনন্দে উদ্বেলিত করে রাখে। তাদের পরিবেশিত গানগুলো সবাই অত্যন্ত আগ্রহের সাথে উপভোগ করতে থাকেন।

উপস্থিত অতিথিদেরকে বাংলাদেশী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পোলাও, কোর্মা, চিকেন, মাংস, সব্জী ও সালাদসহ বিভিন্ন উপাদেয় খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া ছিল ঈদের সেমাই, ফিরনী, পায়েস, ও দই। অনুষ্ঠান শেষের পরেও আনন্দের রেশ শেষ হয়নি। সবাই আড্ডায় মগ্ন হয়ে থাকেন।এভাবেই আনন্দ আর উৎসবমূখরতায় শেষ হলো ময়মনসিংহ ইউ এস এ ঈদ ও পুজা পুনর্মিলনী। বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের এই মিলনমেলা আমাদের ব্যস্ততম মূহুর্ত্বগূলোতে আরেকটি সুখময় স্মৃতির পাতা যোগ করল।
ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উৎসব।
এসোসিয়েশন অব আমেরিকান ফরেন সার্ভিসের আয়োজনে ৬ই অক্টোবর শুক্রবার ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উৎসব।
ধ্রুপদ সাংষ্কৃতিক গোষ্ঠী এবং নূপূর একাডেমী এই উৎসবে বাংলাদেশ দূতাবাসের নেতৃত্বে সাংষ্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহন করেন।

এই উৎসবে উপস্থাপনায় অনন্যা আহমেদ এবং বাংলাদেশ , আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশনায় অন্তরা রহমান কাউরী পর্বে অংশগ্রহন করেন।